নকলে হার মানছে ঐতিহ্যবাহী আসল জামদানি

নকলে হার মানছে ঐতিহ্যবাহী আসল জামদানি

জামদানি শিল্পের কারিগররা ভাল নেই। বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পরও দুর্দশা কাটেনি এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারিগরদের।

ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তাঁতিরা ঝুঁকছেন অন্য পেশায়। এর মধ্যে গোদের উপর বিষ ফোঁড়া হয়ে উঠেছে নকল জামাদানির বিক্রি।

জামদানি শাড়ি পছন্দ করেন না এমন নারী বোধ হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর এই চাহিদাকেই পুঁজি করে সস্তার নকল জামদানিতে বাজার ভরে গিয়েছে। সাধারণের চেনার উপায় নেই- কোনটি আসল আর কোনটি নকল জামদানি। দাম কম হওয়ায় ক্রেতারাও নকল জামদানি কিনছেন। নিজে যেমন প্রতারিত হচ্ছেন, প্রতারণা করছেন সেই সকল খেঁটে খাওয়া দক্ষ কারিগরদের সাথে।

ঢাকার জামদানি ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, ভারতে তৈরি উপ্পাদা জামদানিকে ঢাকাই জামদানি বলে বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ কোনও দেশ জামদানি উৎপাদন কিংবা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করতে চাইলে স্বত্ব দিতে হবে বাংলাদেশকে।

বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট রুবি গজনবী জানান, চোরাই পথে এসে উপ্পাদা জামদানি ‘আসল জামদানি’ বলে বিক্রি হচ্ছে। এই জামদানি গবেষক বলেন, বাজার নকল জামদানিতে ভরে গিয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইলের শাড়িতে কিছু বুটিক করেই জামদানি বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

গজনবী বলেন, যেখানে একটি জামদানি শাড়ির দাম হওয়ার কথা ২০ হাজার টাকা, তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৭ হাজার টাকায়। তাহলে কি এটা আসল জামদানি?

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জামদানি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এটা কিন্তু জাতীয় স্বীকৃতি। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেতে আমাদের আরও ধাপ পেরতে হবে।’

জামদানি শাড়ি কয়েক ধরনের হয়। যেমন সুতি জামদানি, হাফ সিল্ক জামদানি, সিল্ক জামদানি। সম্পূর্ণ হাতের বুননের জামদানিই প্রকৃতপক্ষে আসল জামদানি। হ্যান্ডলুমের জামদানি পরতে যেমন আরামদায়ক, টেকেও অনেক বছর।

অন্যদিকে পাওয়ার লুমের জামদানি যেগুলো আসলে কোনও জামদানিই না। জামদানির ডিজাইন নকল করে পলিয়েস্টার সুতোয় বুনে অল্প দামে তা বিক্রি করা হচ্ছে।

রাজধানী ঢাকার বেইলী রোডের এক জামদানি শাড়ি বিক্রেতা বলেন, আসল-নকল জামদানির পার্থক্য তো দামেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্রেতাদের জামদানির প্রতি দুর্বলতা আছে। আর এটাকেই পুঁজি করে টাঙ্গাইল ও রাজশাহীর শাড়িতে জামদানির নকশা করে তা জামদানি বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভারত থেকেও এ ধরনের শাড়ি প্রচুর আসছে। এগুলো আসলে নকল জামদানি।

তবে দাম কম হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে এর চাহিদা রয়েছে। এই পলিয়েস্টার জামদানি দীর্ঘক্ষণ পরে থাকলে অস্বস্তি বোধ হয়। এছাড়া ত্বকের নানা সমস্যা হতে পারে।

ঢাকার অদূরে রূপগঞ্জের আনোয়ার জামদানির অন্যতম স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গির হোসেন জানান, রূপগঞ্জে যেসব জামদানি তৈরি হচ্ছে সেগুলো আসল জামদানি। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় হাতে বোনা আসল জামদানি কম চলে। তিনি বলেন, ক্রেতারা তো বুঝতে চান না। তারা নকল জামদানি কেনেন। কম টাকায় তো জামদানি শাড়ি হবে না।

তাদের সকলের মত, রপ্তানি ও বিক্রি বাড়াতে জামদানি শাড়ির দাম সাধারণের নাগালের মধ্যে রাখা এবং ঐতিহ্যবাহী এ শাড়ির রং ও নকশার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে গবেষণা করা উচিত। সেইসঙ্গে জামদানির নামে নকল জামদানি বিক্রিও বন্ধ করতে হবে।

সূত্রঃ বীকনবাংলা

Leave a Reply

Close Menu
×
×

Cart